গোধুলি-রাঙা জলে ব্যাঙের অন্তর্ধান
দিনশেষের সূর্য যাবার আগে রাঙিয়ে দিয়েছে তার অন্তর বাহির।
চারপাশের পত্রহীন গাছগুলো দাঁড়িয়ে আছে ধ্যানমগ্ন ঋষির মতো,
তাদের শাখা-প্রশাখা যেন শূন্যের দিকে প্রসারিত প্রার্থনা।
আর সেই গাছের উল্টো ছায়া, জলের আয়নায়,
বাস্তবের চেয়ে যেন আরও গভীর, আরও
নিঃসঙ্গ —
এক অন্য জগৎ, যেখানে শব্দ নেই, শুধু প্রতিফলন।
এই নিস্তব্ধতার মধ্যে হঠাৎ —
ঝপাং!
নৈঃশব্দ্য ভেঙে
একটি ব্যাং লাফিয়ে পড়ল
জলে।
মুহূর্তে ভেঙে গেল সেই ধ্যান, সেই স্থিরতা,
ছড়িয়ে পড়ল কয়েকটি বৃত্তাকার ঢেউ —
ক্রমশ বিস্তৃত, ক্রমশ ক্ষীণ,
কালো জলের উপর সময়ের ক্ষণিক স্বাক্ষরের মতো।
ঢেউগুলো মিলিয়ে গেল —
যেন কখনও ছিলই না।
জল আবার শান্ত, আবার নিঃস্তরঙ্গ,
আকাশের রক্তিমা আবার তার বুকে নিঃশব্দে শুয়ে রইল।
এভাবেই মানুষ —
হঠাৎ একদিন ঝপ করে নামে
মহাকালের গভীর জলে,
কিছু ঢেউ তোলে স্মৃতি ও
স্পর্শের,
তারপর নিঃশব্দে হারিয়ে
যায়।
ঢেউ মুছে যায়, শব্দ বিলীন হয়,
অস্তিত্বের সমস্ত চিহ্ন ধীরে ধীরে ডুবে যায়
মহাকালের সেই গভীর, কালো জলে।
পুকুরটি থাকে —
নীরব, স্থির, অনন্তের মতো উদাসীন।
আর মানুষ —
সে কেবল এক ক্ষণিক তরঙ্গ,
যার জন্ম ও লয়ের কথা
নৈঃশব্দ্যের মধ্যেই লেখা থাকে। 🐸

Comments
Post a Comment