গোধুলি-রাঙা জলে ব্যাঙের অন্তর্ধান
নিরালা এক পুকুর — দিনশেষের সূর্য যাবার আগে রাঙিয়ে দিয়েছে তার অন্তর বাহির। আকাশের শেষ আলো যেন ধীরে ধীরে গলে পড়ছে জলে , যেন অস্তরাগে লেখা হচ্ছে এক নীরব বিদায়পত্র। গোধুলি-রাঙা জলে ব্যাঙের অন্তর্ধান জল স্থির — নিঃস্তরঙ্গ , যেন সময় এখানে থমকে দাঁড়িয়ে আছে । চারপাশের পত্রহীন গাছগুলো দাঁড়িয়ে আছে ধ্যানমগ্ন ঋষির মতো , তাদের শাখা-প্রশাখা যেন শূন্যের দিকে প্রসারিত প্রার্থনা । আর সেই গাছের উল্টো ছায়া , জলের আয়নায় , বাস্তবের চেয়ে যেন আরও গভীর , আরও নিঃসঙ্গ — এক অন্য জগৎ , যেখানে শব্দ নেই , শুধু প্রতিফলন । এই নিস্তব্ধতার মধ্যে হঠাৎ — ঝপাং! নৈঃশব্দ্য ভেঙে একটি ব্যাং লাফিয়ে পড়ল জলে । মুহূর্তে ভেঙে গেল সেই ধ্যান , সেই স্থিরতা , ছড়িয়ে পড়ল কয়েকটি বৃত্তাকার ঢেউ — ক্রমশ বিস্তৃত , ক্রমশ ক্ষীণ , কালো জলের উপর সময়ের ক্ষণিক স্বাক্ষরের মতো । ঢেউগুলো মিলিয়ে গেল — যেন কখনও ছিলই না । জল আবার শান্ত , আবার নিঃস্তরঙ্গ , আকাশের রক্তিমা আবার তার বুকে নিঃশব্দে শুয়ে রইল । এভাবেই মানুষ — হঠাৎ একদিন ঝপ করে নামে মহাকালের গভীর জলে , কিছু ঢেউ তোলে স্মৃতি ও স্পর্শের , ...