সৌভাগ্য না দুর্ভাগ্য — কে জানে?
একসময় এক বৃদ্ধ কৃষক বাস করতেন এক চিনা গ্রামে। তাঁর ছিল একমাত্র ছেলে
ও একটি ঘোড়া। ঘোড়াটি ছিল তাঁর জীবিকার অন্যতম অবলম্বন — জমিতে হাল টানা থেকে শুরু
করে বাজারে যাতায়াত পর্যন্ত সবকিছুই এর ওপর নির্ভরশীল ছিল।
একদিন এক ঝড়বৃষ্টির
রাতে ঘোড়াটি পালিয়ে গেল। প্রতিবেশীরা সান্ত্বনা দিতে এসে বলল, “ভীষণ দুর্ভাগ্য তোমার! একমাত্র
ঘোড়াটিই তো পালিয়ে গেল!”
কৃষক শান্তভাবে
বললেন, “সৌভাগ্য না
দুর্ভাগ্য — কে জানে?”
কিছুদিন পর, হারিয়ে যাওয়া ঘোড়াটি ফিরে এল, সঙ্গে নিয়ে এল আরেকটি বন্য ঘোড়া। এবার
প্রতিবেশীরা উচ্ছ্বসিত হয়ে বলল, “কী সৌভাগ্য! এখন তোমার দুটি ঘোড়া!”
কৃষক মৃদু হাসলেন, “সৌভাগ্য না দুর্ভাগ্য — কে
জানে?”
পরদিন, কৃষকের ছেলে নতুন ঘোড়াটিকে পোষ মানাতে গিয়ে পড়ে গেল এবং তার পা ভেঙে
গেল। প্রতিবেশীরা দুঃখ প্রকাশ করে বলল, “কি দুর্ভাগ্য! তোমার একমাত্র ছেলের
পা ভেঙে গেল!”
কৃষক আগের মতোই বললেন, “সৌভাগ্য না দুর্ভাগ্য — কে
জানে?”
কয়েক সপ্তাহ পর, যুদ্ধ শুরু হল। রাজ্যের সৈন্যরা সব
যুবকদের বাধ্যতামূলকভাবে সেনাবাহিনীতে নিয়ে গেল। কিন্তু কৃষকের ছেলেকে নেয়নি — কারণ
তার পা ভাঙা। এবার প্রতিবেশীরা বলল, “সত্যিই সৌভাগ্য! তোমার ছেলে যুদ্ধ
থেকে বেঁচে গেল!”
কৃষক ধীর স্থিরভাবে বললেন, “সৌভাগ্য না দুর্ভাগ্য — কে
জানে?”
এবার প্রতিবেশী
নিজের মনে ভাবতে লাগল, “কোনটা সৌভাগ্য আর কোনটা দুর্ভাগ্য তা কে জানে।”
এই গল্পটি আমাদের শেখায় — জীবনে যা-ই ঘটুক না কেন, তাৎক্ষণিকভাবে
সেটিকে ভাল বা খারাপ বলে বিচার করা কঠিন। আজ যা দুর্ভাগ্য বলে মনে হচ্ছে, কাল
সেটিই সৌভাগ্য বলে প্রতীয়মান হতে পারে।
আমাদের সুখ-দুঃখ
আসলে নির্ভর করে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির ওপর। কোনও ঘটনা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আমাদের দুঃখী
বা সুখী করতে পারে না। আমরা যদি ঘটনাটি দুর্ভাগ্যজনক মনে করি, তবেই দুঃখ পাই; আর সৌভাগ্যজনক মনে করলে সুখ পাই। তাই
প্রতিটি পরিস্থিতিকে নিরপেক্ষভাবে গ্রহণ করাই প্রকৃত জ্ঞানের পরিচয়।
তাই, জীবনের অনিশ্চিত ঘটনাগুলোর সামনে আমাদের প্রতিক্রিয়া হোক — ‘কে জানে?’

Comments
Post a Comment