Posts

Showing posts with the label সমাজবিজ্ঞান

গণতন্ত্র ও নাগরিক সচেতনতা

Image
আব্রাহাম লিঙ্কন বলেছিলেন , “ Democracy is a government of the people, by the people, and for the people ” — এটি নিঃসন্দেহে গণতন্ত্রের সবচেয়ে উদার , মানবিক ও নীতিনির্ভর সংজ্ঞাগুলোর একটি। এই সংজ্ঞায় মানুষই কেন্দ্রে — মানুষের দ্বারা , মানুষের জন্য , মানুষের হয়ে শাসনব্যবস্থা পরিচালিত হবে। কিন্তু এই আদর্শিক কাঠামো বাস্তব ক্ষেত্রে সবসময় সত্যি হয়ে ওঠে না। কারণ , লিঙ্কন তাঁর গণতন্ত্রের সংজ্ঞায় যে ‘ মানুষ ’ -এর কথা বলেছেন , সেই মানুষ যদি যথাযথ শিক্ষা , বিচারবোধ ও বুদ্ধিমত্তার অভাবে আক্রান্ত হয় , তবে গণতন্ত্রের প্রকৃতি হয়ে ওঠে সংকটপূর্ণ ও বিকৃত। একজন অশিক্ষিত বা অর্ধশিক্ষিত নাগরিক চতুর রাজনীতিবিদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি , ধর্ম বা জাতিগত উস্কানি , বা তাৎক্ষণিক লাভের মোহে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করলে সেই গণতন্ত্র কি আদৌ " for the people" থাকে ? গণতন্ত্র তখন একরকম সংখ্যার খেলায় পরিণত হয় , যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা মানেই ন্যায় বা যুক্তি নয় , বরং তা হয়ে দাঁড়ায় এক শ্রেণির মানুষের হাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার হাতিয়ার । লিঙ্কন যেভাবে গণতন্ত্রকে কল্পনা করেছিলেন , তা ছিল একটি সজাগ , সচেতন এবং সদ্বুদ...

ফ্যাসিবাদ — এক সর্বনিয়ন্ত্রণবাদী মতবাদ

ফ্যাসিবাদ হল এমন এক সর্বনিয়ন্ত্রণবাদী রাজনৈতিক মতবাদ , যা সমাজ ও রাষ্ট্রের সমস্ত বিষয় নিয়ন্ত্রণ করে এবং কোনও বিরোধিতা সহ্য করে না। এটি সাধারণত কর্তৃত্ববাদ ও একনায়কতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নিয়ে গণতন্ত্র ও মুক্ত মতপ্রকাশের বিপক্ষে থাকে। ঐতিহাসিকভাবে , ইতালিতে বেনিতো মুসোলিনি ফ্যাসিবাদের প্রবক্তা ছিলেন এবং পরবর্তীতে আডলফ হিটলারের নেতৃত্বে নাৎসি জার্মানিতে ফ্যাসিবাদ ভয়াবহ রূপ নেয়। ফ্যাসিবাদের উৎপত্তি ‘ ফ্যাসিস্ট’ শব্দটি এসেছে " fascio" থেকে , যার অর্থ ইতালীয় ভাষায় "আঁটি"। প্রাচীন রোমে ‘ঐক্যের মাধ্যমে শক্তি’র প্রতীক হিসেবে গাছের সরু ডালের আঁটি ব্যবহৃত হত। এই সূত্র ধরেই বেনিতো মুসোলিনি ‘একতাই শক্তি’ বার্তা দিতে ফ্যাসিস্ট শব্দটি উদ্ভাবন করেন। তিনি 1921 সালে ন্যাশনাল ফ্যাসিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন , যা জাতীয় ঐক্যের কথা বলে এবং বিরোধীদের দমন করতে প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে। মুসোলিনি মূলত সমাজতন্ত্রীদের ঘৃণা করতেন এবং তাঁর ফ্যাসিবাদী সহিংসতার লক্ষ্য ছিল সমাজতন্ত্রীদের শাস্তি দেওয়া। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় সমাজতন্ত্রীরা ইতালিকে সমর্থন করেনি , যা মুসোলিনির ক্রোধের...

জেনোসাইড ও গণহত্যা কি সমার্থক?

সংবাদ মাধ্যমে ‘জেনোসাইড’ এবং ‘গণহত্যা’ শব্দ দুটি প্রায়শ গুলিয়ে ফেলা হয় । যেন   গণহত্যা আর জেনোসাইড দুটি সমার্থক শব্দ। আসলেই কি তাই? দেখা যাক, শব্দ দুটির প্রকৃত অর্থ কী। ‘জেনোসাইড’ শব্দটির অফিসিয়াল সংজ্ঞা নির্ধারিত হয়েছে জাতিসংঘের ‘জেনোসাইড কনভেনশন’ দ্বারা ১৯৪৮ সালে। এই সংজ্ঞা অনুযায়ী, ‘genocide means any of the following acts committed with intent to destroy, in whole or in part, a national, ethnical, racial or religious group’ — অর্থাৎ, জেনোসাইড হল কোনও জাতীয়, জাতিগত, বর্ণগত বা ধর্মীয় জনগোষ্ঠীকে পুরোপুরি বা আংশিকভাবে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে সংঘটিত কিছু নির্দিষ্ট কর্ম। এই কর্মগুলো হলঃ ১) সেই জনগোষ্ঠীর সদস্যদের হত্যা করা; ২) সেই জনগোষ্ঠীর সদস্যদের গুরুতর শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি করা; ৩) জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার এমন অবস্থা সৃষ্টি করা যাতে তাদের শারীরিক ধ্বংস অনিবার্য হয়ে ওঠে; ৪) জনগোষ্ঠীতে জন্মগ্রহণ প্রতিরোধ করার উদ্দেশ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করা; ৫) সেই জনগোষ্ঠীর শিশুদের জোরপূর্বক অন্য জনগোষ্ঠীতে স্থানান্তরিত করা।   এই পাঁচটি কাজের যে কোনও একটিকে জেনোসাইড হিসেবে গণ্য করা...