অজ্ঞতাই শান্তি

জ্ঞ’ মানে যিনি জানেন। অজ্ঞ মানে যিনি জানেন না। প্রাজ্ঞ মানে যিনি খুব ভাল করে জানেন। কিন্তু আমরা সবাই জন্মগতভাবে অজ্ঞ। জন্মের পর আমাদের কোনও বিষয়েই কোনও জ্ঞান বা উপলব্ধি থাকে না। অর্থাৎ, দুনিয়ার কোনও কিছু সম্পর্কেই তখন আমরা কিছু জানি না। উই নো নাথিং অ্যাবাউট এভরিথিং।

পরে শিক্ষার মাধ্যমে ধীরে ধীরে কিছু কিছু বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে শুরু করি। শিক্ষার স্তর এগোতে থাকে। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে উচ্চ বিদ্যালয়, তারপর আরও উচ্চতর পর্যায়ে পৌঁছাই। এভাবে বিভিন্ন বিষয়ে আরও অনেক জ্ঞান অর্জন করি

বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করার পর শুরু হয় বিশেষীকরণ বা স্পেশালাইজেশন। অর্থাৎ, অল্প কয়েকটি বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে থাকি। এক পর্যায়ে কেউ দাঁতের ডাক্তার হন, কেউ চোখের। চোখের ডাক্তার দাঁত সম্পর্কে কিছু জানেন না, আর দাঁতের ডাক্তার চোখের বিষয়ে। এই ধারাটি চলতে থাকলে, একদিন হয়তো দেখা যাবে বাম ও ডান চোখের জন্য আলাদা ডাক্তার থাকবে। ডান চোখের ডাক্তার জানবেন না বাম চোখের কী সমস্যা

শিক্ষার এই ক্রমাগত বিশেষায়নের ফলে আমরা অল্প কিছু বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জন করি, কিন্তু জ্ঞানের ক্ষেত্র সংকীর্ণ হতে থাকে। গভীরতা বাড়তে থাকে, আর বিষয় সংখ্যা কমতে থাকে। এই ধারা যদি চলতে থাকে, তাহলে হয়তো এমন এক সময় আসবে, যখন আমরা কিছুই না সম্পর্কে সবকিছু জানব। অর্থাৎ, শিক্ষাজীবন শুরু হবে উই নো নাথিং অ্যাবাউট এভরিথিং দিয়ে এবং শেষ হবে উই নো এভরিথিং অ্যাবাউট নাথিং দিয়ে

আসলে, যত বেশি পড়াশোনা করি, ততই আবিষ্কার করি আমাদের অজ্ঞতার পরিমাণ। তাই মনে হয়, অল্প কিছু বিষয়ে সামান্য জ্ঞান থাকলেই জীবন সুন্দরভাবে কাটানো সম্ভব। গভীর জ্ঞানের ভারটি অল্প কিছু মানুষের জন্য ছেড়ে দেওয়া উচিত। আর আমরা বিশ্বাস রাখতে পারি এই প্রবাদে — ইগনোরেন্স ইজ পিস, অর্থাৎ অজ্ঞতাই শান্তিকারণ যা আমরা জানি না, তা আমাদের কষ্ট দিতে পারে না 

Comments

Popular posts from this blog

দুর্গাপূজা কেন সর্বজনীন উত্‍সব